অ্যাম্বুল্যান্স থামিয়ে আহতকে আবার ছুরিকাঘাতে হত্যা

অ্যাম্বুল্যান্স থামিয়ে আহতকে আবার ছুরিকাঘাতে হত্যা

বাঁশখালীতে জমি নিয়ে বিরোধ

আহত ব্যক্তির অ্যাম্বুল্যান্স থামিয়ে আবার ছুরিকাঘাতে তাঁকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা মূলত আধিপত্য বিস্তার ও জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন দুজন যারা বাধা দিতে গিয়েছিলেন। অ্যাম্বুল্যান্সটি পুরপুরি ভেঙে দিয়েছে হামলাকারীরা। গতকাল মঙ্গলবার ১২ই মে ২০২০ সকালে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সাধনপুর নামের এলাকার প্রধান সড়কে এ ভয়াবহ ঘটনা ঘটে।

নিহত জহিরুল ইসলাম (বয়স ৩৭) দক্ষিণ সাধনপুরের মৃত আলী মিয়ার পুত্র। যিনি পেশায় একজন সাধারণ ট্রাকচালক। ঘটনায় আহতরা হলেন জামাল উদ্দিন (বয়স ৫৫) ও রবিউল ইসলাম হিরন (বয়স ২২)। সরেজমিন ঘুরে ও তথ্য সংগ্রহ করে জানা গেছে, প্রায় সপ্তাহ খানেক আগে জমি নিয়ে বিরোধে দক্ষিণ সাধনপুরের সুলতান আহমদের ছেলে মাহমুদুল ইসলাম (ওরফে মাহমুদ) প্রতিপক্ষের সাথে সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে আহত হন। এ ঘটনায় মাহমুদ রামদাশ মুন্সির হাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মামুন হাসানের কাছে একটি এজাহার দেন। কিন্তু পুলিশ পরিদর্শক মামুন এজাহারটি নথিভুক্ত না করে মাহমুদকে ‘আজ নয় কাল’ এসব বলে ঘোরাতে থাকেন। এদিকে এজাহারের আসামি ওই এলাকার স্থানীয় নেজাম উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম মনির, মো. জহির আহমদ ও আরো কয়েকজন দুর্বৃত্ত মিলে গত সোমবার ১১ই মে ২০২০ রাতে মাহমুদুল ইসলাম (ওরফে মাহমুদ) এর ওপর আবার হামলা করে তাঁর ঘরবাড়ি ভেঙে দেন। মাহমুদের মামা জহিরুল ইসলাম এর প্রতিবাদ করেন।

এর জের ধরে অভিযুক্ত নেজাম, মনির, জহির, সিরাজুল ও আরো কয়েকজন দুর্বৃত্ত গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ছুরিকাঘাত করে জহিরুলের পেটের সব নাড়িভুঁড়ি বের করে ফেলেন। জহিরুলকে দ্রুত প্রতিবেশীরা গুনাগরির এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান। কিন্তু অবস্তার অবনতি দেখে সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান। অ্যাম্বুল্যান্সে করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক)-এ নেওয়ার সময় দক্ষিণ সাধনপুরে প্রধান সড়কে দুর্বৃত্ত সন্ত্রাসীরা আবার সশস্ত্র হামলা চালিয়ে অ্যাম্বুল্যান্সেটির গতিরোধ করে। এরপর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে নাড়িভুঁড়ি বের হওয়া সেই জহিরুলকে হত্যা করে তারা।

এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেন যে, সেই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মামুন হাসানের দায়িত্ব অবহেলার কারণে এরকম একটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এমন এলাকার বহু অপরাধে অভিযুক্তদের সঙ্গে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মামুন হাসানের সম্পর্ক রয়েছে। মামুন হাসানের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ থাকলেও তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে কোনোভাবেই বদলি করা হচ্ছে না। এসবের বিপরিতে মামুন হাসান বলেন, ‘হত্যার ঘটনাটি তিনি অতন্ত গুরুতের সাথে তদন্ত করাছেন। পূর্ববিরোধের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সম্পৃক্ততা কি আসলেই রয়েছে কি না নাকি সবই গুজব তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে। এবং আমার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর যেসব অভিযোগ তার কোনটিই সঠিক নয়।’ অপর দিকে চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানার ওসি মোহাম্মদ রেজাউল করিম মজুমদার ও সম্পর্কে বলেন, ‘লাশটি মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি হত্যা মামলা করা হবে। খুনিদের গ্রেপ্তারে সর্বদা অভিযান চলছে। দোষী যেকাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

More Stories
অ্যাম্বুল্যান্স থামিয়ে আহতকে আবার ছুরিকাঘাতে হত্যা
মোট আরো ৪ দিন বাড়তে পারে সাধারণ ছুটি