Woman having facial care

নতুন লেজার প্রযুক্তি ব্যবহারে সারস কভি-২ শনাক্ত হবে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে?

দুবাইয়ের খ্যাতনামা কোয়ান্টাম পদার্থবিদদের দাবি। তাদের লেজার প্রযুক্তি বেশ কার্যকর।

সারা বিশ্ব জুড়ে যখন চলছে সারস কভি-২-র প্রকোপ। আর এর টেস্ট নিয়ে তোড়জোড় প্রচেষ্টা চলছে বিশ্বজুড়ে। তখনই নতুন লেজার প্রযুক্তির মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নিখুঁতভাবে সারস কভি-২ -র টেস্ট করার পদ্ধতি নিয়ে এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

কি এই পরীক্ষার পদ্ধতি?

দুবাইয়ের খ্যাতনামা কোয়ান্টাম পদার্থবিদের একটি দল দাবি করছে, এই টেস্টের মাধ্যমে শতকরা ৯০ ভাগ সঠিক ফলাফল পাওয়া সম্ভব। কোয়ান্টলেস ইমেজিং ল্যাব কতৃপক্ষ বলছে একটি কার্যকর ভ্যাকসিন যতদিন বাজারে না আসছে ততদিন এই প্রযুক্তি ব্যবহারে ভাইরাস শনাক্ত করা সহজ হবে।

লেজার মেশিনে রোগীর এক ফোঁটা রক্ত ব্যবহারের মাদ্ধমে পরীক্ষা করা হবে। দুবাইয়ের সেই কোয়ান্টলেস ইমাজিং ল্যাব বিপুল গবেষণার পর এই প্রযুক্তি তৈরি করেছে।

পরীক্ষাটি কিভাবে কাজ করে?

ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়াবেটিস যেভাবে পরীক্ষা করা হয় ঠিক সেভাবে হাত থেকে সামান্য রক্ত নিয়ে এই পরীক্ষাটি করা হবে। একটি স্লাইডের উপর সেই রক্ত নিয়ে তারপর লেজার মেশিনে দেয়া হবে। তারপরে সেই রক্তের নমুনায় একটি লেজার রশ্মি করে রাখা হয়, যা এমন একটি ছক প্রবর্তন করে যা শুধুমাত্র ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এই ছক কম্পিউটার অ্যালগরিদম দ্বারা বিশ্লেষণ করা হয়েছে যা থেকে ব্যক্তি সুস্থ বা অসুস্থ কিনা তা নির্ধারণ করা হয়। আর এ কাজে অন্যান্য নমুনার সাথে ব্যক্তির নমুনা তুলনা করে। কোয়ান্টলেস ইমেজিং ল্যাব এর গবেষণার প্রধান ড. প্রমোদ কুমার বলছেন, একটি অস্বাস্থ্যকর রক্তকণিকা এবং একটি স্বাস্থ্যকর রক্তকণিকার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। তাই এর মাধ্যমে সারস কভি-২ সংক্রমিত ব্যক্তিকে খুব সহজে আলাদা করা যাবে। সুস্থ ব্যক্তির রক্তকণিকা লেজার আলোর নিচে পুরো গোলাকার রিং এর মত দেখা যায়। কিন্তু তবে সেই রিংটি অসুস্থ ব্যক্তির রক্তকণিকায় দেখা যায় না। কারন অসুস্থ ব্যক্তির রক্তকণিকার কোষগুলিতে নষ্ট হয়ে যায় এবং এগুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। প্রমোদ কুমার বলেন, যদি রক্তের কোষে একটি লেজার রশ্মি দেয়া হয় এবং যদি কোনও সংক্রমণ হয় তবে রক্তের কোষটি বিকৃত হয়ে যায় বা আকার, ঘনত্ব, কোষে পরিবর্তন হয়।

পরীক্ষাটি কিভাবে সারস কভি-২ শনাক্ত করতে পারে?

সব ভাইরাসের নিজস্ব একটা কোষগত আকার আছে। কম্পিউটার অ্যালগরিদম রক্তে যে আকার দেখায় তা অনুসন্ধান করে অন্য নমুনার সাথে তুলনা করে।

পরীক্ষাটি আসলে কতটা সঠিক?

কোয়ান্টলেস ইমেজিং ল্যাব এর গবেষণার প্রধান ড. প্রমোদ কুমার ও কোয়ান্টাম পদার্থবিদের একটি দলের মতে, পরীক্ষাটি ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ইতিবাচক ফলাফল দিতে পারে। এবং মাত্র ৪ শতাংশ ফলাফল ভুল আসতে পারে। আর কোয়ান্টাম পদার্থবিদগন এই ৪ শতাংশ ভুলের বিষয়টি উন্নতির চেষ্টা করাছেন। ৬ হাজার নমুনা এখন পর্যন্ত ট্রায়াল হিসেবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারে পরীক্ষা করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে আগামী সপ্তাহেই এর অনুমোদন দেওয়া হবে।

More Stories
Horses sleeping in Monument valley
এবার ৫০০ ঘোড়ার মৃত্যু হল বাদুড়বাহী অজানা ভাইরাসে